প্রাণিবিদ্যা
প্রাণিবিদ্যা ক্যারিয়ার
প্রাণিজগৎকে কিংডম বলা হয়। বর্তমানে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে প্রোটোজোয়া প্রাণীদের আলাদা উপজগৎ (Sub kingdom)এ ভাগ করা হয়। অন্যান্য প্রাণীদেরকে অ্যানিম্যালিয়া (Animalia) জগতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অ্যানিম্যালিয়া জগতকে নয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।
১-পরিফেরা (Porifera)
স্বভাব ও বাসস্থান : পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত। পৃথিবীর সর্বত্রই এদের পাওয়া যায়।এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। তবে কিছু কিছু প্রাণী স্বাদু পানিতে বাস করে। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাসকরে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
(২) এদের দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সাথেঅক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
(৩) এদের কোনো পৃথক সুগঠিত কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র থাকে না।
উদাহরণ : স্পনজিলা, স্কাইফা
২-নিডারিয়া (Cnidaria) : এই পর্ব ইতোপূর্বে সিলেন্টারোটা নামে পরিচিত ছিল।
স্বভাব ও বাসস্থান : পৃথিবীর প্রায় সকল অঞ্চলে এই প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক।তবে অনেক প্রজাতি খাল, বিল, নদী, হ্রদ, ঝরনা ইত্যাদিতে দেখা যায়। এই পর্বের প্রাণীগুলো বিচিত্র বর্ণ ও আকার-আকৃতির হয়। এদের কিছু প্রজাতি এককভাবে আবার কিছু প্রজাতি দলবদ্ধভাবে কলোনি গঠন করে বাস করে। এরাসাধারণত পানিতে ভাসমান কাঠ, পাতা বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে দেহকে আটকে রেখে বা মুক্তভাবে সাঁতার কাটে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(১) এদের দেহ দুটি ভ্রুণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত। দেহের বাইরেরদিকের স্তরটি এক্টোডার্ম এবং ভিতরের স্তরটি এন্ডোডার্ম।
(২) এদের দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এটা একাধারে পরিপাকও সংবহনে অংশ নেয়।
(৩) একটোডার্মে নিডোব্লাস্ট নামে এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ থাকে। এই
কোষগুলো শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, চলন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
উদাহরণ : হাইড্রা, ওবেলিয়া।
৩-প্লাটিহেলমিনথিস (Platyhelminthes)
স্বভাব ও বাসস্থান : এ পর্বের প্রাণীগুলোর জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। এ পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বাঅন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদুপানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতেবাস করে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) এদের দেহ চ্যাপ্টা, এরা উভলিঙ্গ ও অন্তঃপরজীবী।
(২) দেহ কিউটিকেল দ্বারা আবৃত।
(৩) দেহে চোষক ও আংটা থাকে।
(৪) দেহে শিখা কোষ নামে বিশেষ কোষ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
(৫)পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ।
উদাহরণ : ফিতাকৃমি, যকৃত কৃমি।
৪-নেমাটোডা (Nematoda) : অনেকে একে নেমাথেলমিনথিস বলে।
স্বভাব ও বাসস্থান : এই পর্বের অনেক প্রাণী অন্তঃপরজীবী হিসেবে প্রাণীর অন্ত্র ও রক্তে বসবাস করে। আবার এ পর্বেরঅনেক প্রাণীই মুক্তজীবী। এরা পানি ও মাটিতে বাস করে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) দেহ নলাকার ও পুরু ত্বক দ্বারা আবৃত।
(২) পৌষ্টিক নালি সম্পূর্ণ, মুখ ও পায়ু ছিদ্র উপস্থিত।
(৩) শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
(৪) সাধারণত একলিঙ্গ।
(৫) দেহ গহ্বর অনাবৃত ও প্রকৃত সিলোম নাই।
উদাহরণ : কেঁচো কৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি।
গুরুত্ব : এই পর্বের অধিকাংশ প্রাণী পরজীবী হিসেবে বিভিন্ন প্রাণী
ও মানবদেহে বাস করে নানারকম ক্ষতি সাধন করে।
৫-অ্যানেলিডা (Annelida)
স্বভাব ও বাসস্থান : পৃথিবীর প্রায় সকল নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে এ পর্বের প্রাণীদের পাওয়া যায়। এদেরবহু প্রজাতি স্বাদু পানিতে এবং বহু প্রজাতি সমুদ্রে বাস করে। এই পর্বের বহু প্রাণী স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বসবাস করে।কিছু প্রজাতি পাথর ও মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বসবাস করে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) এদের দেহ নলাকার ও খণ্ডায়িত।
(২) নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
(৩) প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে। সিটা চলাচলে সহায়তা করে।
উদাহরণ : কেঁচো ও জোঁক।
৬-আর্থ্রোপোডা (Arthropoda)
স্বভাব ও বাসস্থান : এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম পর্ব। এরা পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র সকল পরিবেশে বাসকরতে সক্ষম। এদের বহু প্রজাতি অন্তঃ ও বহিঃ পরজীবী হিসেবে বাস করে। বহু প্রাণী স্থলে, স্বাদু পানি ও সমুদ্রে(চিত্র ১.৫ : কেঁচো, জোঁক) বাস করে। এ পর্বের অনেক প্রজাতির প্রাণী ডানার সাহায্যে উড়তে পারে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) দেহ খন্ডায়িত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
(২) মাথায় একজোড়া পুজ্ঞাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
(৩) নরম দেহ শক্ত কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
(৪) এদের দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
উদাহরণ : প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশোলা, কাঁকড়া।
৭-মলাস্কা (Mollusca)
স্বভাব ও বাসস্থান : এ পর্বের প্রাণীদের গঠন, বাসস্থান ও স্বভাব বৈচিত্র্যপূর্ণ। এরা পৃথিবীর প্রায় সকল পরিবেশে বাসকরে। এরা সামুদ্রিক এবং সাগরের বিভিন্ন স্তরে বাস করে। কিছু কিছু প্রজাতি পাহাড় অঞ্চলে, বনেজঙ্গলে ও স্বাদুপানিতে বাস করে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) এদের দেহ নরম। নরম দেহটি সাধারণত শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে।
(২) পেশিবহুল পা দিয়ে এরা চলাচল করে।
(৩) ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বসনকার্য চালায়।
উদাহরণ : শামুক ও ঝিনুক।
৮-একাইনোডারমাটা(Echinodermata)
স্বভাব ও বাসস্থান : এ পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক। এদের স্থলে বা মিঠা পানিতে পাওয়া যায় না। এরা অধিকাংশমুক্তজীবী।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) এদের দেহত্বক কাঁটাযুক্ত।
(২) দেহ পাঁচটি সমান ভাগে বিভক্ত।
(৩) এদের পানি সংবহনতন্ত্র থাকে এবং নালী পদের সাহায্যে চলাচল করে।
(৪) পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে মাথা, অঙ্কীয় ও পৃষ্ঠদেশ নির্ণয় করা যায় না।
উদাহরণ : তারামাছ, সমুদ্র শশা।
নতুন শব্দ : সিলোম, সিলেন্টেরন, হিমোসিল, সিটা, পানি সংবহনতন্ত্র, শিখাকোষ।
৯-কর্ডাটা (Chordata)
স্বভাব ও বাসস্থান : এরা পৃথিবীর সকল পরিবেশে বাস করে। এদের বহু প্রজাতি ডাঙ্গায় বাস করে।
জলচর কর্ডাটাদের মধ্যে বহু প্রজাতি স্বাদু পানিতে অথবা সমুদ্রে বাস করে। বহু প্রজাতি বৃক্ষবাসী, মরুবাসী, মেরুবাসী, গুহাবাসী ও খেচরজীবনযাপন করে। কর্ডাটা পর্বের বহু প্রাণী বহিঃপরজীবী হিসেবে অন্য প্রাণীর দেহে সংলগ্ন হয়ে জীবনযাপন করে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(১) নটোকর্ড হলো একটা নরম নমনীয়, দণ্ডাকার দৃঢ় অখণ্ডায়িত অঙ্গ। এই পর্বের কোনো কোনো প্রজাতির প্রাণীরসারা জীবন অথবা ভ্রুণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড অবস্থান করে।
(২) পৃষ্ঠদেশে একক, ফাঁপা মেরুরজ্জু থাকে।
(৩) সারা জীবন অথবা জীবন চক্রের কোনো এক পর্যায়ে পার্শ্বীয় গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র থাকে।
উদাহরণ : মানুষ, কুনোব্যাঙ, রুই মাছ।
কর্ডাটা পর্বকে তিনটি উপপর্বে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. ইউরোকর্ডাটা (Urochordata)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
১. প্রাথমিক অবস্থায় ফুলকা রন্ধ্র, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা মেরুরজ্জু থাকে।
২. এদের লেজে নটোকর্ড থাকে।
উদাহরণ : অ্যাসিডিয়া।
খ. সেফালোকর্ডাটা (Cephalochordata)
১. নটোকর্ড এদের দেহের সম্মুখভাগে অবস্থান করে।
২. সারাজীবনই নটোকর্ডের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
উদাহরণ : ব্রাঙ্কিওস্টোমা
গ. ভার্টিব্রাটা (Vertebrata)
এই উপ-পর্বের প্রাণীরাই মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ৭টি শ্রেণিতেভাগ করা হয়েছে।
১.সাইক্লোস্টোমাটা (Cyclostomata)
(ক) লম্বাটে দেহ।
(খ) মুখছিদ্র চোয়ালবিহীন ও চোষকযুক্ত।
(গ) এদের দেহে আঁইশ বা যুগ্ম পাখনা অনুপস্থিত।
উদাহরণ : পেট্রোমাইজন।
২.কনড্রিকথিস (Chondrickthyes)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(ক) এই পর্বের সকল প্রাণী সমুদ্রে বাস করে।
(খ) কঙ্কাল তরুণাস্থিময়।
(গ) এদের দেহ প্ল্যাকয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত, মাথারদুই পাশে ৫-৭ জোড়া ফুলকা ছিদ্র থাকে।
(ঘ) এদের কানকো থাকে না।
উদাহরণ : হাঙ্গর, করাত মাছ।
৩.অস্টিকথিস (Ostichthyes)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(ক) এদের অধিকাংশই স্বাদু পানির মাছ।
(খ) দেহ সাইক্লয়েড ও টিনয়েড উভয় ধরনের আঁইশ দ্বারা আবৃত।
(গ) মাথার দুই পাশে চার জোড়া ফুলকা থাকে। ফুলকাগুলো
কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে। ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্যচালায়।
৪.উভচর (Amphibia)
মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে যারা জীবনের প্রথম অবস্থায় সাধারণত পানিতে এবং মাছের মতো বিশেষ ফুলকার সাহায্যেশ্বাসকার্য চালায়, পরিণত বয়সে ডাঙ্গায় বাস করে তারাই উভচর।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(ক) এদের দেহত্বক আঁইশবিহীন।
(খ) ত্বক নরম, পাতলা, ভেজা ও গ্রন্থিযুক্ত।
(গ) এরা শীতল রক্তের প্রাণী।
(ঘ) এরা পানিতে ডিম পাড়ে। এদের জীবনচক্র সাধারণত ব্যাঙাচি দশা দেখা যায়।
উদাহরণ : সোনাব্যাঙ, কুনোব্যাঙ।
৫.সরীসৃপ (Reptilia)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(ক) এরা বুকে ভর করে চলে।
(খ) ত্বক শুষ্ক ও আঁইশয্ক্তু।
(গ) চারপায়ে পাঁচটি করে নখরযুক্ত আঙ্গুল আছে।
উদাহরণ : টিকটিকি, কুমির, সাপ।
৬.পক্ষীকূল (Aves)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(ক) পাখির দেহ পালকে আবৃত।
(খ) এদের সামনের দু’পা ডানায় ও চোয়াল চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে।
(গ) ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি থাকায় এরা সহজে উড়তে পারে।
(ঘ) এরা উষ্ণ রক্তের প্রাণী।
(ঙ) পাখির হাড় শক্ত, হালকা ও ফাঁপা।
উদাহরণ : কাক, দোয়েল, হাঁস।
৭.স্তন্যপায়ী (Mammalia)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
(ক) এদের দেহ লোমে আবৃত থাকে।
(খ) ব্যতিক্রমি স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া এরা সবাই সন্তান প্রসব করে।
(গ) উষ্ণ রক্তের প্রাণী।
(ঘ) চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে।
(ঙ) শিশুরা মাতৃ দুগ্ধ পান করে বড় হয়।
(চ) হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
উদাহরণ : মানুষ, উট, বাঘ।
শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা
শ্রেণিবিন্যাসের সাহায্যে পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্বন্ধে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সহজে, অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়েজানা যায়। নতুন প্রজাতি শনাক্ত করতে শ্রেণিবিন্যাস অপরিহার্য। প্রাণিকূলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে প্রাণিকূলের মাঝে যে পরিবর্তন ঘটেছে বা ঘটছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অসংখ্যজীবকূলকে একটি নির্দিষ্ট রীতিতে বিন্যস্ত করে গোষ্ঠীভুক্ত করা যায়। জীবের মধ্যে মিল-অমিলের ভিত্তিতে পরস্পরেরমধ্যে সম্বন্ধ নির্ণয় করা যায়। জীব সম্পর্কে সামগ্রিক ও পরিকল্পিত জ্ঞান নির্ণয় করা যায়। যেমন- সব এককোষীপ্রাণীকে একটি পর্বে এবং বহুকোষী প্রাণীদের নয়টি পর্বে ভাগ করা হতো।
-কর্ডাটা প্রাণিজগতের কতকগুলো প্রাণী যাদের মধ্যে নটকর্ড, স্নায়ুরজ্জু ও গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র আছে এবং এরাভার্টিব্রাটা নামে পরিচিত।
– ভার্টিব্রাটা উন্নত প্রাণী। এদের নটকর্ড শক্ত কশেরুকাযুক্ত মেরুদন্ডে পবিবর্তিত হয়।
-স্নায়ুরজ্জুর সম্মুখ প্রান্ত স্ফীত হয়ে মস্তিষ্কে পরিণত হয়। মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত থাকে।
– জলজ ভার্টিব্রাটা ফুলকার সাহায্যে শ্বসন কাজ চালায় আর যারা স্থলে বাস করে তারা ফুসফুসের
সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
– মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের নরম দেহ ম্যান্টল দ্বারা আবৃত থাকে। মাংসল পা দিয়ে চলাফেরা করে।
– যে সমস্ত প্রাণীকে এদের দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর একাধিকবার সমান দুঅংশে ভাগ করা হয় তাকে
অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে। যেমন – তারামাছ।
– বহুকোষী প্রাণীর পৌষ্টিক নালি এবং দেহ প্রাচীরের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে সিলোম বলে।
– দেহ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এটা একাধারে পরিপাক ও সংবহনের কাজ করে।
– হিমোসিলের ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়।
– ভ্রূণের যে সকল কোষীয় স্তর থেকে পরবর্তীতে টিস্যু বা অঙ্গ সৃষ্টি হয় তাদের ভ্রূণস্তর বলে।
– প্রাণিজগতে আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিকর পোকাদের পেষ্ট বলে।
আদি প্রাণী –এ্যামিবা ।
মানুষের হাড়ের সংখ্যা – ২০৬ টি ।
মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা – ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ।
মানবদেহে মোট কশেরুকা – ৩৩ টি ।
মানবদেহে হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা – ৪ টি ।
ভিটামিন এ এর অভাবে – রাতকানা রোগ হয় ।
রক্ত সংবহন তন্ত্র আবিস্কার করেন – উইলিয়াম হার্ভে ।
রক্তের গ্রুপ আবিস্কার করেন – ল্যান্ড স্টীনার ।
রক্তের সার্বজনীন গ্রহীতা – ‘AB’ গ্রুপ ।
রক্তের সার্বজনীন দাতা – ‘O’ গ্রুপ ।
রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে – রক্ত শুন্যতা সৃষ্টি হয় ।
ডায়াবেটিস রোগ হয় – ইনসুলিনের অভাবে ।
হৃদপিন্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানোকে বলে – এনজিওপ্লাস্ট ।
মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে – কার্বন-ডাই-অক্সাইড ।
ডায়াবেটিস রোগির রক্তে বৃদ্ধি পায় – গ্লুকোজ ।
ক্লোনিং পদ্ধতিতে প্রথম জন্মগ্রহণকারী প্রাণীর নাম – ডলি ।
পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাধায় – রেনিন ।
ঝিনুকের প্রদাহের ফল – মুক্তা ।
মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ও রক্ত বাঁধাকে বলে – স্ট্রোক ।
নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয় – ধমণীর মধ্য দিয়ে ।
সর্বাধিক স্নেহজাতীয় খাদ্য পাওয়া যায় – দুধে।
ব্যকটেরিয় কর্তৃক সৃষ্ট রোগ – কলেরা, টায়ফয়েড, যক্ষা ।
এইডস একটি – ভাইরাস ঘটিত রোগ ।
বাংলাদেশের একজন পূর্ন বয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিনের শক্তি প্রয়োজন – ২৫০০ ক্যালোরি ।
শব্দ দুষনের ফলে সৃষ্টি হয় – উচ্চ রক্তচাপ ।
ব্যাকটেরিয়া কোষ বিভাজন ঘটায় – মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ।
মানুষের মস্তিস্কের ওজন – ১.৫০ কেজি ।
মানবদেহে প্রতিদিন পানির প্রয়োজন – ৪-৫ লিটার ।
হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণকে যথাক্রমে বলে – সিস্টোল ও ডায়াস্টোল ।
প্রজননে সাহায্য করে – ভিটামিন ‘ই’ ।
DNA এর মূল মজ্জাকে সুবিন্যাস্ত করাকে বলে – জিন থেরাপি ।
DNA এর অর্থ ডি অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড ।
জিনতত্ত্বের জনক – ভাইজম্যান ।
হিমোফিলিয়া একটি – বংশগত রোগ ।
হারের মধ্যে পানি থাকে – ৪০-৪৫ % ।
অন্ত্র দুই প্রকার – ১) ক্ষুদ্রান্ত ও ২) বৃহদান্ত ।
জীবিত কোষের মধ্যে তৈরী হয় – এনজাইম ।
এনজাইম কাজ করে মূলত – অনুঘটক হিসাবে ।
রক্ত এক প্রকার – যোজক কলা ।
রক্ত দুই প্রকার উপাদান দিয়ে গঠিত – ১) রক্ত রস ও ২) রক্ত কনিকা ।
পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে – ৭২ বার ।
রেচন অঙ্গগুলি হলো – ত্বক, ফুসফুস, যকৃত ও বৃক্ক ।
প্রধান রেচন অঙ্গ – বৃক্ক (প্রায় ৭৫% নিষ্কাষন করে)।
বৃক্ক দেখতে অনেকটা – সীমের বীজের মতো ।
পিটুইটারি গ্রন্থকে বলে – রাজ গ্রন্থি ।
পুংজনন গ্রন্থিতে পাওয়া যায় – টেস্টোসটেরন ।
স্ত্রীজনন গ্রন্থিতে পাওয়া যায় – ইস্ট্রোজেন ।
ত্বক তিনটি স্তর দিয়ে গঠিত – ১)বহি:ত্বক, ২) ডার্মিস ও ৩) হাইপোডার্মিস ।
কঙ্কালতন্ত্রের রোগ – রিকেটস, গেঁটে বাত ।
পরিপাক তন্ত্রের রোগ – আমাশয়, গ্যাস্টাইটিস ।
রক্ত সংবহন তন্ত্রের রোগ – রক্তচাপ, হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোক, বাতজ্বর, রক্ত শুন্যতা ।
শ্বসন তন্ত্রের রোগ – নিউমোনিয়া, যক্ষা, ব্রঙ্কাইটিস ।
দীর্ঘজীবী প্রাণী – নীল তিমি (প্রায় ৫০০ বছর) ।
সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণী – আফ্রিকার হাতি ।
সবচেয়ে বড় জলচর প্রাণী – নীল তিমি ।
সবচেয়ে বড় সরীসৃপ – কুমির ।
সবচেয়ে দ্রুততম পশু – চিতাবাঘ (ঘন্টায় ৪৫ মাইল) ।
সবচেয়ে দ্রুততম পাখি – সুইফ্ট (ঘন্টায় ২০০ মাইল) ।
আরশোলার হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ট – ১৩ টি ।
মানুষের হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ট – ৪ টি ।
হাঙ্গরের হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ট – ৩ টি ।
তেলাপোকার রক্তের রং – বর্ণহীন ।
মাছ পানিতে ভাসা নিয়ন্ত্রণ করে – দেহের ভেতরের বায়ু থলির বাতাস কমিয়ে বাড়িয়ে ।
সবচেয়ে লম্বা ও ভারী সাপ – আনাকোন্ডা ।
স্বাদু পানির সবচেয়ে ক্ষুদ্র মাছ – ডুয়ার্ফ পিগমী গোবী ।
সাপ শুনতে পায় – ত্বকের সাহায্যে ।
রাজ কাকড়ার অপর নাম – লিমুলাস ।
সমুদ্রে তেল অপসারণের জন্য ব্যবহৃত হয় – সুপার বাগ বা মাইক্রোবিয়াল ইনক্যকট্যান্ট ।
কুকুর পাগল হয়ে থাকে – জলাতংক রোগ হলে ।
-কর্ডাটা প্রাণিজগতের কতকগুলো প্রাণী যাদের মধ্যে নটকর্ড, স্নায়ুরজ্জু ও গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র আছে এবং এরাভার্টিব্রাটা নামে পরিচিত।
– ভার্টিব্রাটা উন্নত প্রাণী। এদের নটকর্ড শক্ত কশেরুকাযুক্ত মেরুদন্ডে পবিবর্তিত হয়।
-স্নায়ুরজ্জুর সম্মুখ প্রান্ত স্ফীত হয়ে মস্তিষ্কে পরিণত হয়। মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত থাকে।
– জলজ ভার্টিব্রাটা ফুলকার সাহায্যে শ্বসন কাজ চালায় আর যারা স্থলে বাস করে তারা ফুসফুসের
সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
– মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের নরম দেহ ম্যান্টল দ্বারা আবৃত থাকে। মাংসল পা দিয়ে চলাফেরা করে।
– যে সমস্ত প্রাণীকে এদের দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর একাধিকবার সমান দুঅংশে ভাগ করা হয় তাকে
অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে। যেমন – তারামাছ।
– বহুকোষী প্রাণীর পৌষ্টিক নালি এবং দেহ প্রাচীরের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে সিলোম বলে।
– দেহ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এটা একাধারে পরিপাক ও সংবহনের কাজ করে।
– হিমোসিলের ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়।
– ভ্রূণের যে সকল কোষীয় স্তর থেকে পরবর্তীতে টিস্যু বা অঙ্গ সৃষ্টি হয় তাদের ভ্রূণস্তর বলে।
– প্রাণিজগতে আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ক্ষতিকর পোকাদের পেষ্ট বলে।
প্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যাপ্রাণিবিদ্যা