StudyTechnology

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে বেশ পরিচিত একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি , যা হয়ত আপনি সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো ব্লগে শুনে ও দেখে থাকবেন। কি এই ডিজিটাল মার্কেটিং, এর সুবিধাসমূহ কি ও কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে আয় করা যায়, সে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানবো এই পোস্টে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 

What is digital marketing ? ডিজিটাল মার্কেটিং কি

একটি ব্যবসার সফলতা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করে তার মার্কেটিং এর উপর। মার্কেটিং বলতে সাধারণত আমরা কোন পণ্য বা সার্ভিসের প্রচার প্রচারণাকেই বুঝি। কিন্তু না, এর অর্থ আরো অনেক গভীর। শুধুমাত্র প্রচার প্রচারণা দিয়েই মার্কেটিং এর প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। একটু ভাবুন, আমি আপনার কাছে আমার পণ্যের প্রচার করলাম, কিন্তু আমার এই পণ্য আপনি নিবেন না, আপনার কোন প্রয়োজন নেই। তাহলে এই মার্কেটিং কি আমার জন্য কোনভাবে লাভজনক হবে? কখনো না। সহজ কথায়, মার্কেটিং হলো ক্রেতার মন জয় করে তার কাছে কোন পণ্য বিক্রি করা। এবার আসুন ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বুঝার চেষ্টা করি,

যেহেতু বিষয়টা একটু জটিল, আমি উদাহরণের মাধ্যমে আপনাকে স্পষ্টভাবে বুঝানোর চেষ্টা করব। 

ধরুন, আপনার একটি মোবাইল ফোনের দোকান আছে, তার পাশেই আপনার বন্ধুরও একটি মোবাইলের দোকান আছে। তাহলে, আপনাদের দুজনের বিজনেসের মধ্যে সবসময় একটা কম্পিটিশন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এখন, আপনার বন্ধু ফেসবুকে একটি পেইজ খুলল তার দোকানের নামে এবং তার যত কাস্টমার আছে সবাইকে ওই পেজে এনগেইজ করে ফেলল, পাশাপাশি আপনার এলাকার যত মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে সবাই আস্তে আস্তে তার পেইজ ফলো করতে লাগল। আপনি দেখলেন হুট করে আপনার দোকানের কাস্টমার কমে গেল, যারা আপনার দোকানে আসত তারাও আপনার বন্ধুর দোকানে চলে যাচ্ছে। তাহলে এখানে ঘটনাটা কি ঘটল, ভাবুন

খুব সাধারন ব্যপার, আপনার এলাকার অধিকাংশ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। আপনার বন্ধুর বিজনেসের অনলাইন পেজ থাকায় তার দোকানে নতুন কোন মোবাইল ফোন আসার সাথে সাথে ফেসবুক পেজে ছবি আপলোড করে দেয় এবং তার পেজের ফলোয়াররা খুব সহজে জানতে পারে। এদিকে আপনার অনলাইনে কোন এক্টিভিটি নাই। আপনার দোকানে তার থেকে ভালো পণ্য নিয়ে আসলেও আপনার কাস্টমার রা এত তাড়াতাড়ি কোন আপডেট পাচ্ছে না। তাহলে আপনি আপনার বন্ধুর সাথে কম্পিটিশনে টিকে থাকতে পারবেন?

আর এভাবেই, প্রতিটি বিজনেসের অনলাইন প্রেজেন্স এর গুরুত্ব অপরিহার্য হয়ে গেছে। অফলাইনে যেমন কাস্টমার পাওয়ার জন্য আপনাকে মার্কেটিং করতে হয়েছে, একইভাবে অনলাইনেও মার্কেটিং করা প্রয়োজন। আপনার বন্ধুর পেজটি এতদিনে সবাই চিনে গেছে, আর আপনি নতুন একটি পেজ নিয়ে এসেছেন। আপনার বন্ধুর পেজ থেকেই তারা পণ্য কিনবে, আপনার পেজে আসার আর কোন প্রয়োজন তাদের নেই। আপনি যে আপনার বন্ধুর থেকে ভালো সার্ভিস দিচ্ছেন, তা তো আপনার অডিয়েন্সদের বুঝাতে হবে, তাদের কাছে আপনার পেজটি রিচ করতে হবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধারণা কিভাবে এসেছে। আপনার কনসেপ্ট আরো ক্লিয়ার করতে নিজে নিজে একটু ভাবুন।

অফলাইনে যেমন দেখেন, জনসমাগম বেশি আছে এমন জাগায় ৫০০টাকার একটা ব্যানার লাগিয়ে দিলে ওই জাগায় যত লোক আসবে সবার কাছে আপনার বিজনেস পরিচিত হয়ে যাবে। অনলাইনে কিন্তু বিষয়টা এরকম সহজ না। আবার ধরুন, আপনার বিজনেসের সব কাস্টমার মহিলা, যেখানে অধিকাংশ মহিলারাই বাইরে আসে না, তাদের জন্য আপনার ভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হয়। এক্ষেত্রে অনলাইন মার্কেটিং আপনাকে বেশি সুবিধা দিবে। আপনার ধারণা যখন আরো স্পষ্ট হবে তখন বুঝতে পারবেন অফলাইন মার্কেটিং এর তুলনায় অনলাইন মার্কেটিং অনেক বেশি ফলপ্রসূ এবং আপনার মার্কেটিং কস্ট তুলনামুলকভাবে কম।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর পরিচিতি

ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বিশাল একটা সেক্টর। সহজে বুঝার জন্য ৩টা ক্যাটাগরিতে চিন্তা করুন । চলুন তাহলে দেখি-

স্মার্ট অফলাইন মার্কেটিং

ইলেক্ট্রনিক বিলবোর্ড এবং সাধারণ বিলবোর্ডের পার্থক্য ভাবুন। ঢাকা শহরের ব্যস্ততম রাস্তার পাশে আপনার একটি রেস্টুরেন্ট আছে। আপনি তার সামনে একটি ইলেক্ট্রনিক বিলবোর্ড লাগিয়ে দিলেন, যেটিতে একটার পর একটা খাবারের ছবি ভেসে আসছে। শুধু তাই নয়, কাস্টমারদের ফিডব্যাকও দেখানো হচ্ছে। এগুলো সাধারণ বিলবোর্ডের তুলনায় বেশি কাস্টমারের মনোযোগ কেন আকর্ষন করবে না? তাহলে বুঝুন আপনার সেল কি পরিমাণে বাড়বে?

আপনি যখন মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের দোকানে যান তখন দেখবেন, কিছু ডেমো ডিভাইস সাজানো আছে, যেগুলো কাস্টমাররা খুব মনোযোগী হয়ে দেখতেছে। আপনার যদি কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দোকান থাকে তাহলে, ডেমো ডিভাইস রাখা টা একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 

টিভি মার্কেটিং

টেলিভিশন মার্কেটিং কে আপনি মার্কেটিং জগতের দৈত্য হিসেবে ভাবতে পারবেন। এর ফলাফল কোনদিনই কমবে না। এটি এমন একটি ইন্ডাস্ট্রি যেখানে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অর্থ ব্যয় করা হয় মার্কেটিং এর প্রয়োজনে।

টেলিভিশনে আপনারা যেসব এড দেখতে পান, স্বাভাবিক ভাবেই এরা আপনার মনে দীর্ঘকাল স্বায়ী হয়। তারা এড গুলো এমন ভাবে তৈরি করে যে আপনি নিজের অজান্তেই তাদের মার্কেটিং করে দেন। যেকোন কোম্পানির ব্র্যান্ডিং এ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে টিভি মার্কেটিং। তাহলে আপনি যদি অফলাইন মার্কেটিং এর কথা ভাবেন, আমি আপনাকে সাজেস্ট করব টিভি মার্কেটিং এর প্রতি বেশি মনোযোগী হন।

ফোন মার্কেটিং

বর্তমানে ৭৫% এর বেশি মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ডেক্সটপ পিসি বা ল্যাপটপের তুলনায় ফোন মার্কেটিং বেশি কার্যকরী ফলাফল দিয়েছে।

Text Messaging এবং Phone calls এই মার্কেটিং এ খুব বেশি কার্যকরী। আপনার বিজনেসে বিভিন্ন অফার, কুপন, ডিসকাউন্ট ইত্যাদি আপনার কাস্টমারের ফোনে পাঠিয়ে দিন। মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে এটা অনেক বেশি এনগেইজিং। তাই যত বেশি পারেন আপনার কাস্টমারের ফোন নাম্বার গুলো সংগ্রহ করুন এবং মার্কেটিং এর এই প্রক্রিয়াটি ফলো করুন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিস্তার

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক। ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্র গুলো সম্পর্কে সহজে আলোচনা করার জন্য আমি এগুলোকে ৮টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। চলুন দেখে নেয়া যাক-

  1. Search Engine Optimization (SEO)
  2. Search Engine Marketing (SEM)
  3. Social Media Marketing (SMM)
  4. Content Marketing
  5. Email Marketing
  6. Affiliate Marketing
  7. Pay Per Click Advertising (PPC)
  8. Cost Per Action Marketing (CPA Marketing)
  9. Mobile Marketing.
  10.  Interactive Marketing.
  11.  Viral Marketing.

ডিজিটাল মার্কেটিং একক কোন বিষয় নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে মার্কেটিং জগতের এর সামগ্রিক বিষয়। আমরা যেমন অফলাইন মার্কেটিং দেখি অনলাইনেও ঠিক একইভাবে মার্কেটিং করতে হয়, কিন্তু স্ট্র্যাটেজি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাক:

1.Search Engine Optimization :

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা সংক্ষেপে এসইও (SEO) হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসইও এর মানে হলো, সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন ফলো করে আপনার সাইটের কন্টেন্ট সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করে তৈরি করা। ধরুন আপনার আপনার সার্ভিস বা প্রোডাক্ট যদি আপনার কাস্টমার রা সার্চ করে খুঁজে না পায়, তাহলে আপনি কখনোই সফল হতে পারবেন না।

আপনার বিজনেসের জন্য নতুন কাস্টমার বা বিজনেসের ব্র্যান্ডিং করার জন্য এসইও এর বিকল্প নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং দীর্ঘস্থায়ী টেকনিক। তারপর আসুন গুগল মাই বিজনেস। আপনারা নিশ্চয়ই কোন সার্ভিস বা প্রোডাক্ট সার্চ করলে প্রথমে কিছু রেজাল্ট দেখতে পান, যা শুধু গুগল ম্যাপের। এগুলোকে বলা হয় গুগল থ্রি প্যাক রেজাল্ট। আপনার বিজনেসের অনলাইন প্রেজেন্স গ্রো করতে গুগল মাই বিজনেস ব্যাপকভাবে সাহায্য করে।

See also  ৮ম শ্রেণী কৃষি শিক্ষাঃ 8th class agriculture question paper

আপনার বিজনেসকে খুঁজে পেতে আপনার কাস্টমার রা যেসব কিওয়ার্ড ব্যাবহার করে তা খুঁজে বের করতে গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার ব্যাবহার করুন। কিওয়ার্ড বাছাই করতে আপনি সবসময় লো কম্পিটিশন কিওয়ার্ড বাছাই করবেন। লং টেইল কিওয়ার্ড এক্ষেত্রে বেশি হেল্পফুল। তারা আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে কি ডিভাইস ব্যবহার করছে, কোন লোকেশন থেকে ভিজিট করছে, কোন সার্চ ইঞ্জিন বা কোন রেফারেল ওয়েবসাইট থেকে, জেন্ডার, এইজ, কত সময় ব্যয় করছে আপনার ওয়েবসাইটের কোন পেইজে, সমস্ত কিছু জানতে আপনার সাইটে গুগল এনালিটিক্স ব্যাবহার করুন।

গুগল সার্চ কনসোল গুগলের আরো একটি অসাধারণ ফ্রি সার্ভিস, যার সাহায্যে আপনি দেখতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটে যারা ভিজিট করছে তারা কোন কোন কিওয়ার্ড ব্যাবহার করে আপনার সাইটে ভিজিট করে। কোন কিওয়ার্ডের জন্য আপনার ওয়েবসাইটের কোন পেইজটি কত নাম্বার সার্চ রেজাল্টে র‍্যাঙ্ক করছে। আর এগুলো দেখে আপনি আরো আইডিয়া পাবেন, আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর রা পরবর্তী কি সার্ভিস বা প্রোডাক্ট আপনার কাছে চাইছে।

Digital marketing

2.Search Engine Marketing (SEM):

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বা SEM এর মানে হলো বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে এড দেয়া। ধরুন, আপনার বিজনেসের অডিয়েন্স আপনার সাইট খুঁজে পেতে যেসব কিওয়ার্ড ব্যবহার করে সেসব কিওয়ার্ডের জন্য আপনার সাইটের অবস্থান অনেক নিচের দিকে। আমরা জানি যে, সার্চ রেজাল্টের প্রথম ৩টির পরে আর কেও ক্লিক করে না, দেখতেও চায় না। তাহলে আপনি কোনভাবে আপনার সাইটে কোন ভিজিটর পাবেন না।

কাস্টমাররা আপনার বিজনেস রিলেটেড যেসব কিওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে সেসব কিওয়ার্ডের জন্য আপনার সাইটকে সার্চ রেজাল্টের প্রথম অবস্থানে দেখানোর জন্য এড দেয়া হলো সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। কিওয়ার্ড বাছাই এবং কোন কিওয়ার্ডের জন্য প্রতি ক্লিকে আপনাকে কত পেমেন্ট করতে হবে এগুলো জানতে হলে আপনাকে গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার ব্যবহার করতে হবে।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর গুরুত্ব কতটুকু সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনি সেটা নিজেই বুঝেন। আপনার ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের জন্য ভিজিটর পেতে এবং আপনার বিজনেসের ব্র্যান্ডিং এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং।

এই প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল। তবে বেশ কিছু টেকনিক আছে, যেগুলো মানলে আপনি এর ব্যয় অনেক কমিয়ে আনতে পারবেন। এর জন্য আপনার সাইটে রিলেভেন্ট কন্টেন্ট থাকতে হবে। এড দেয়ার জন্য কিওয়ার্ড অপটিমাইজ করে নিতে হবে। আপনাকে স্পেসিফিক অডিয়েন্স টার্গেট করতে হবে। যারা এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য তাদের জন্য পরবর্তীতে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে পোস্ট লিখব।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 

3.Social Media Marketing (SMM)

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর অবস্থান। প্রতিটি মানুষ, যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করে, সবাই নিজেকে সোস্যালাইজ করার জন্য বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে নিজেকে যুক্ত রাখে। তার মানে বুঝতেই পারছেন প্রতিটি বিজনেসের কাস্টমারদের ই আপনি সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে খুঁজে পাবেন। এই জন্য এর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি আপনাকে খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে আপনি নিয়মিত কাজ করলে খুব সহজে আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ডিং করে ফেলতে পারবেন। এজন্য আপনাকে সবসময় আপনার অডিয়েন্সের ইন্টারেস্টের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিভিন্ন অফার, কম্পিটিশন, ইভেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে আপনার বিজনেসের অডিয়েন্সদের খুব সহজে এনগেইজড রাখতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় A TO Z 

সোস্যাল মিডিয়া এডভার্টাইজিং এ কস্ট অনেক কম, বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইন্সতাগ্রামে। আর কাস্টমার টার্গেট করাও অনেক সহজ। তাই সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ইনভেস্ট করতে সব বিজনেস ওনারদের আগ্রহ একটু বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন সোস্যাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক, ইন্সতাগ্রাম, ইউটিউব, টুইটার, লিঙ্কডিন, পিন্টারেস্ট, রেডিট ইত্যাদি। এই প্ল্যাটফর্ম গুলোতে আপনার অনলাইন প্রেজেন্স থাকতেই হবে।

4.Content Marketing

আপনি যদি জানতে চান ডিজিটাল মার্কেটিং এর জগতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কোনটি? তাহলে জেনে নিন, কন্টেন্ট হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। একটি ওয়েবসাইট র‍্যাংক করানোর জন্য কন্টেন্ট কে কিং বলা হয়। কন্টেন্ট ছাড়া একটা ওয়েবসাইট র‍্যাংক করানোর দ্বিতীয় কোন উপায় নেই। এইজন্য কন্টেন্ট মার্কেটিং এত গুরুত্বপূর্ণ।

ইমেজ, টেক্সট এবং ভিডিও এই তিনটি জিনিস কন্টেন্ট মার্কেটিং এ আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। ইতিপূর্বে আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চের কথা বলেছি। নিশ্চয়ই আপনাকে এমন কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে যেগুলো সার্চ ভ্যালু আছে এবং কম্পিটিশন লো। এবার আপনার সিলেক্ট করা কিওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেল লিখুন। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর জন্য কি ধরণের আর্টিকেল লিখতে হবে তা জানতে আমার আরেকটি পোস্ট থেকে আর্টিকেল লেখার নিয়ম জেনে নিন।

কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার বিজনেসের ব্র্যান্ডিং করতে পারবেন। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে আপনার কন্টেন্ট গুলো র‍্যাংক করিয়ে নতুন কাস্টমার পেতে পারেন। আপনার ভিজিটরদের ইন্টারেস্ট এবং তারা নতুন কি চাইছে আপনার কাছে তা জানতে গুগল এনালিটিক্স এবং সার্চ কনসোল ব্যবহার করতে হবে।

Digital marketing

5.Email Marketing

ডিজিটাল মার্কেটিং এ সফল হবার জন্য ইমেইল মার্কেটিং এর উপর আপনাকে বিশেষ নজর দিতে হবে। একটু ভেবে দেখুন প্রতিদিন আপার ইনবক্সে কতগুলো ইমেইল আসে, সাথে এডও। নিশ্চয়ই খেয়াল করবেন অনেক আনওয়ান্টেড ইমেইল ও আসে, যেগুলো আপনার কাছে বিরক্তিকর এবং আপনার ইনবক্স ফুল করে ফেলে।

আরো ভাবুন, এত ইমেইল থেকে আপনি কয়টা ইমেইল খুলে দেখেন? এবার কাস্টমারদের কথা ভাবুন। আগে আপনাকে আপনার স্পেসিফিক কাস্টমার টার্গেট করে তাদের ইমেইল সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইনে বেশ কিছু টুল পাবেন ইমেইল মার্কেটিং এ যেগুলো আপনার জন্য হেল্পফুল হবে। তবে আপনাকে ইমেইল সংগ্রহ করতে বেশ কিছু টেকনিক ফলো করতে হবে।

সঠিক উপায়ে ইমেইল মার্কেটিং করতে না পারলে আপনার মার্কেটিং কস্ট বেড়ে যাবে এবং কোন প্রকার বেনিফিট পাবেন না। ইমেইল টেম্পলেট ডিজাইন, ইমেইল রাইটিং, আই ক্যাচি সাবজেক্ট এই জিনিস গুলো আপনাকে ইমেইল মার্কেটিং এ সফল হতে সাহায্য করবে। আর অনলাইনের ঐ টুল গুলো ব্যবহার করে আপনি জানতে পারবেন আপনার ইমেইল মার্কেটিং এর সাকসেস রেট সম্পর্কে। ইমেইল মার্কেটিং এ ক্যাম্পেইন রান করার সময় আপনাকে খুব বুঝে শুনে ইনভেস্ট করতে হবে।

digital maeketing

6. Affiliate Marketing

এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো আপনার কোন পণ্য বা সার্ভিস অন্য কেউ বিক্রি করে দিবে, বিনিময়ে আপনি তাকে লভ্যাংশ দিবেন। এটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর খুবই চমকপ্রদ একটি বিষয়। আপনার অনলাইন বিজনেস গ্রো করতে এফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক বেশি হেল্প করে।

এক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং লোভনীয় হচ্ছে এমাজনের এফিলিয়েট মার্কেটিং। একটু লক্ষ করলে দেখতে পাবেন অধিকাংশ অনলাইন বিজনেসে এফিলিয়েট মার্কেটিং যুক্ত আছে। আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো, আপনার বিজনেসে এফিলিয়েট অবশ্যই যুক্ত করুন। যতটুকু সম্ভব লভ্যাংশ শেয়ারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে আপনার বিজনেসের এফিলিয়েট লোভনীয় করে তুলুন।

এতে বিভিন্ন জাগয়া থেকে মার্কেটার রা আপনার বিজনেসের এফিলিয়েট করে ব্র্যান্ডিং গ্রো করতে সাহায্য করবে। আরেকটি বিষয় আছে লিড জেনারেশন, এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ঠিক পাশাপাশি যার অবস্থান। ধরুন আপনি অনলাইনে কোন সার্ভিস বা কোর্স সেল করেন। ওই বিষয়ে যেসব কিওয়ার্ড লিখে গুগলে যারা সার্চ করে এবং ওই কিওয়ার্ড গুলোর জন্য যেসব ওয়েবসাইট ১ম দিকে র‍্যাংক করে আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা আপনার সার্ভিস বা বিজনেসকে প্রোমোট করবে। এভাবে আপনি সেল জেনারেট এবং কাস্টমার আরো বেশি পেতে পারেন।

See also  ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের তালিকা (input and output devices list of computer)

7.PPC Advertising (Pay Per Click)

এ সম্পর্কে অল্প কিছু ধারণা পেয়েছেন সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং অংশে। PPC মানে হলো পে পার ক্লিক, অর্থাৎ প্রতি ক্লিকের জন্য আপনাকে পে করতে হবে। সার্চ এড ছাড়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ এড হলো ডিসপ্লে এড। এতে আপনি খুব কম খরচে অনেক বেশি মানুষের কাছে আপনার এড রিচ করাতে পারবেন। সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটি পাবেন তা হলো আপনার বিজনেসের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ছবি এবং ভিডিও দেখাতে পারবেন, যা আপনার অডিয়েন্সদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে আপনাকে সাহায্য করবে।

ডিসপ্লে এডের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারবেন। আমরা সাধারণত বিভিন্ন ব্লগে এবং ইউটিউব ভিডিও তে ডিসপ্লে এড দেখে থাকি। গুগল আপনাকে এই ডিসপ্লে এডে কস্ট অপটিমাইজ করতে অনেক বেশি হেল্প করে। গুগল নিজে আপনার এড টার্গেটেড অডিয়েন্স দের দেখায়। নিজের ভিডিও মার্কেটিং ছাড়া অন্যের ভিডিও তে এড দেখিয়ে আপনি সুবিধা নিতে পারেন।

8.CPA Marketing (Cost Per Action)

CPA মার্কেটিং বুঝার জন্য আপনি পিপিসি এবং এফিলিয়েটের একটা কম্বিনেশন চিন্তা করতে পারেন। একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করুন, মার্কেটিং এ আমাদের উদ্দ্যেশ্য থাকে যা আমরা ইনভেস্ট করব তার থেকে বেশি যেন আমরা রিটার্ন পাই। ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভাষায় যাকে বলা হয় ROI অর্থাৎ রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট। সিপিএ মার্কেটিং এ আপনার আরওআই সবচেয়ে বেশি হতে পারে।

ধরুন আপনি ১০০$ এ একটি জুতা বিক্রি করবেন। যে মার্কেটার সিপিএ মার্কেটিং করে আপনার জুতা বিক্রি করে দিল তাকে দিলেন ১০$, তাহলে আপনার মার্কেটিং কস্ট হলো ১০$ মার্কেটিং এর এই প্রক্রিয়া টি মূলত ব্যবহার করা হয় লিড জেনারেশনের কাজে। এখান থেকে আপনি একদম রিয়েল কাস্টমার পেতে পারেন এবং সেল জেনারেট করতে পারেন। ই-কমার্স সাইটে কোয়ালিটি ট্রাফিক ড্রাইভ করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রোমোট করার জন্য সিপিএ মার্কেটিং আপনাকে অনেক বেশি সাহায্য করবে। এর জন্য আপনাকে কোন মার্কেটিং এজেন্সি বা কোন ডিজিটাল মার্কেটার হায়ার করার প্রয়োজন হবে না। বিভিন্ন সিপিএ মার্কেটিং নেটওয়ার্কে গিয়ে আপনি অফার সাবমিট করে দিয়ে আসুন।

digital marketing

9. Mobile Marketing

Mobile Marketing হ’ল এমন একটি Marketing যা Mobile Device কে Marketing জন্য ব্যবহার করতে হয়। এতে যে কোনও Marketing activities কোনও Mobile device সের মাধ্যমে করা যেতে পারে যেমন কোনও online shopping বা যে কোনও product বিজ্ঞাপনের জন্য SMS notification. famous marketing specialist Andreas Kaplan মোবাইল Marketing সম্পর্কে কিছু বলার আছে, একটি Marketing activity যা ubiquitous network মাধ্যমে করা হয় এবং যার সাহায্যে Consumer বা গ্রাহকরা তাদের personal Mobile Device সের সাহায্যে অবিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত থাকেন।

যদি দেখা যায় তবে Internet Marketing সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ যেখানে Marketers কারীদের তাদের Service সরবরাহ এবং তাদের products গুলির advertise দেওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন। এই জাতীয় Marketing Mobile User কারীর research বোঝার জন্য, সেই অনুযায়ী Mobile Platform design করতে এবং Mobile Marketing বিভিন্ন techniques অবলম্বন করতে অনেক গবেষণা গ্রহণ করে। এটির সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে যে লোকেরা ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য বিজ্ঞাপন যেমন continuously email, sms এবং mms পাচ্ছে বা advertisement সংযুক্ত থাকতে না পারে।

digital marketing

10. পে-পার-ক্লিক মার্কেটিং

পে-পার-ক্লিক বা পিপিসি হলো কোনো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন পোস্ট করা ও প্রতি ক্লিকের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা। এই মার্কেটিং এর ক্ষেত্রটি কিছুটা জটিল হলেও ব্রান্ডের কাছে বেশ আকর্ষণীয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই ধরন।

প্রতি পিপিসি ক্যাম্পেইন থেকে টার্গেট অডিয়েন্স পাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ কনভার্সন রেট ও বিদ্যমান থাকে, যা ব্র্যান্ডের কাছে বেশ লাভজনক। আপনি যদি পিপিসি মার্কেটিং সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন, তবে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে উক্ত সেবা প্রদান করে আয় করতে পারেন।

  1. মার্কেটিং অটোমেশন

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের কার্যকরীতা বাড়াতে ও অডিয়েন্সের সাথে যোগাযোগ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসতে সফটওয়্যারের ব্যবহারকে মার্কেটিং অটোমেশন বলা হচ্ছে। কনজ্যুমার সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে টার্গেট অডিয়েন্সের জন্য মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালানো হয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই মাধ্যমে।

এছাড়াও অডিয়েন্সকে কাস্টম মেসেজ পাঠানোর মত অসাধারণ টুলস ও অন্তর্ভুক্ত মার্কেটিং অটোমেশনের ক্ষেত্রে। মার্কেটিং অটোমেশন শিখে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে এ সংক্রান্ত কাজ করতে পারেন।

  1. ইন্টারেক্টিভ মার্কেটিং

আপনার ওয়েবসাইটে কি ধরনের ভিজিটর আসে আর কতজন ভিজিটর আসে তার উপরেই আপনার ওয়েবসাইটের সকল সাফল্য নির্ভর করে। আপনি একটা ভিডিও তৈরি করে সেটা বিভিন্ন ভিডিও সাইটে দিতে পারেন যেমন ইউটিউব, ডেইলিমোশন, ভিমিও, রেভের ইত্যাদি। এতে আপনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়বে আর অনেক মানুষকে আপনার ওয়েবসাইটে আসতে বাধ্য করবে।

13.ভাইরাল মার্কেটিং

আপনি যেই সেক্টরেই থাকুন না কেন, আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ভাইরাল মার্কেটিং ও কনটেন্টের গুরুত্ব বলে হয়তো শেষ করা যাবেনা। ছবি বা লেখাকে প্রোমোট করতে আপনার আর তেমন খাটনি করার প্রয়োজন হবে না। মানুষই ভাইরাসের মত কনটেন্টটি ছড়িয়ে দেবে। এই ধরণের কনটেন্ট তৈরী ও প্রকাশ করার পরে আপনার কাজটি হল তার দিকে নজড় রাখা, যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি প্রায় সকল সোশাল মিডিয়াতেই ইনসাইট বা এ্যানালিটিকস রয়েছে যা দিয়ে আপনি একটি কনটেন্ট কতোটা ভালো পারফর্ম করছে বা না করলে কি সমস্যার কারণে করছে না ইত্যাদি জানতে পারেন। দিন শেষে, একটি কথা না বললেই নয়! তা হল ভালো কনটেন্ট তৈরী করুন। ক্যাপশান, পোস্ট করার সময়, প্রিভিউ ইমেজ ইত্যাদির উপরেও অনেকাংশে ভাইরালিটি নির্ভর করে।

14. ডিজিটাল মিডিয়া পরিকল্পনা বায়িং

যখন মিডিয়া এজেন্সি গবেষণা এবং একটি সমন্বিত কৌশল ফ্রেমওয়ার্ক এর সমন্বয়ে মার্কেটিং হয় তখন আমরা এটাকে ডিজিটাল মিডিয়া পরিকল্পনা বলে থাকি। স্মার্ট ডিভাইস ও ইন্টারনেটের প্রসারে দিনকে দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন মিডিয়াগুলো। ফলে বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ড ও কোম্পানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে প্রচার প্রচারণার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অনলাইন মার্কেটিং। ফলে অনলাইন মিডিয়ার প্রসারে ছাপা পত্রিকা, গতানুগতিক বিলবোর্ডসহ পুরাতন সব প্রচার মাধ্যমকে পেছনে ফেলার পথে এই নব্য মিডিয়া।

15. ওয়েব এনালিটিক্স

আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ওয়েব Analytics। মূলত, ওয়েব এনালিটিক্স সংগ্রহ করা, পরিমাপ, বুঝতে, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা, রিপোর্ট করা এবং আপনার ব্যবসার জন্য ওয়েব কার্যক্রম ভবিষ্যদ্বাণী করতে আপনাকে সাহায্য করবে। ওয়েব এনালিটিক্স ওয়েব পরিসংখ্যান সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব এনালিটিক্স হচ্ছে গুগল এনালিটিক্স, স্প্রিং মেট্রিক্স, অপেরা, প্রিন্ট। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রত্যেক বিজ্ঞাপনদাতা তার ব্যবসা বুঝতে ওয়েব এনালিটিক্স ব্যবহার করা হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট ব্যবহারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেননা এখন বেশিরভাগ মানুষই অনলাইন মুখী হয়ে যাচ্ছে। আপনি যদি ব্যবসার প্রসার বা বাড়াতে চান অথবা সফলতা বৃদ্ধি করতে চান।

See also  ssc suggestion 2022 all subject [১০০% কমন]

তাহলে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতি ফোকাস থাকতে হবে কেননা এর মাধ্যমে আপনি অতিরিক্ত পরিচিতি লাভ করতে পারবেন। যা আপনার বিক্রি এবং ক্রয়ের সেবা বাড়াতে সাহায্য করবে।

যারা মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো আইডিয়া রয়েছে তারা খুব সহজে বুঝতে পারবে যে ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মার্কেটিং এমন একটি বিষয় যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার প্রোডাক্ট মানুষের কাছে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে প্রোডাক্টের ভালো রিভিউ এর মাধ্যমে প্রডাক্টিভ ক্রয় বা বিক্রয় করার প্রতি উৎসাহিত করা কী বোঝায়।

আপনার সেবা বা প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণা মানুষের মাঝে যত বেশি করতে পারবেন অর্থাৎ দেখাতে পারবেন তত বেশি বিক্রয়ের পরিমাণ তত বেশি হয়ে যাবে।

একজন মার্কেটারের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে প্রডাক্ট বা সেবার ভালো দিকগুলো মানুষের মাঝে তুলে ধরা অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে মার্কেটিং করতে যাবেন সে বিষয় সম্পর্কে লোকজনকে সে জিনিস সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা প্রদান করা। যাতে উৎসাহিত হয়ে সেই জিনিসটি ক্রয় বা বিক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

পুরনো দিনে কোন প্রোডাক্টের মার্কেটিং করার জন্য বিভিন্ন দোকান বাজার এবং মানুষের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে ফের ওয়ালাদের সাহায্যে মার্কেটিং করতে হতো।

এবং বিভিন্ন প্রকার রেডিও টেলিভিশন পেপার পত্রিকার মাধ্যমে প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দ্বারা মার্কেটিং করা হতো আর এ সকল বিজ্ঞাপন গুলোকে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল মার্কেটিং করার কারণ

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন ইন্টারনেট বা অনলাইনের যুগ চলে আসলো তখন বিভিন্ন প্রকার সোশ্যাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এর আবির্ভাব হওয়ার পর সেখানে মানুষ সময় ব্যয় করতে শুরু করে দিল।

তখন বিভিন্ন মার্কেটার ভাবল যে এই সকল সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা আমাদের মার্কেটিং এর কাজ সেরে ফেলতে পারি। এই চিন্তাধারা থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতি আকর্ষিত হওয়ার পর শুরু হয়ে গেল ডিজিটাল মার্কেটিং।

এতে করে সময়ের সাথে সাথে অনেক অর্থের অপচয় থেকে বাঁচা যায় যদি সে সকল মার্কেটিং গুলো অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়। এই সকল চিন্তাধারার মধ্য থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আবির্ভাব আসে এবং প্রতিনিয়ত এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে দিয়েছে।

একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইচ্ছা করলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত টার্গেট খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে পূর্ণ করে ফেলতে পারবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়ার আগে অবশ্যই আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে পুরো আইডিয়া অর্জন করতে হবে অন্যথায় আপনি সাকসেস হতে পারবেন না। আপনি যদি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান তাহলে দুটি পন্থায় শিখতে পারবেন।

নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখাঃ

একটি উপায় হলো অনলাইনে গুগোল ইউটিউব সহ অন্যান্য ব্লগ পড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। আর এই উপায়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন বা বুঝতে চাইলে আপনার কোন ধরনের পেমেন্ট করতে হবে না ।

ফ্রিতে সব ধরনের মার্কেটিং সম্পর্কে নলেজ অ্যাড বা জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তবে এতে করে আপনার কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। কেননা একা একা যখন কোন কাজ করতে যাবেন তখন অবশ্যই আপনাকে মনোযোগ সহকারে সেগুলো দেখতে হবে প্র্যাকটিস করতে হবে।

নিয়মিত ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভিডিও দেখা ব্লগ পড়া সহ অন্যান্য উপায়ে প্র্যাকটিস করার পর একটি সময় আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়ে যাবেন।

পেইড কোর্স করে শেখাঃ 

আপনি যদি ফ্রি ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে না চায় অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি আইটি সেক্টর অথবা কোন অফলাইন অনলাইন কোর্স করতে চান তাহলে এটাও করতে পারেন তবে এজন্য আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে।

এবং বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা মাধ্যমে আপনার সমস্যাটা সমাধান খুব সহজে নিতে পারবেন আপনার মেন্টরের  কাছ থেকে।

অনলাইন বা অফলাইন কোর্সের মাধ্যমে যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান। তাহলে আপনার একা একা শেখার চেয়ে কম সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

এর জন্য অবশ্যই আপনাকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আইটি কোম্পানি অথবা আপনার মেন্টরকে প্রদান করতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা কি?

অন্যান্য মার্কেটিংয়ের থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে খরচ এবং সময় অনেক কম হয় বিধায় ডিজিটাল মার্কেটিং দিনে দিনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে যারা ছোট ছোট ব্যবসায়ী তাদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক কার্যকরী কেননা তারা অনেক টাকা খরচ করে বিভিন্ন পেপার-পত্রিকা এবং টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না।

পেপার পত্রিকাতে ছোট করে একটা বিজ্ঞাপন দিতে গেল হাজার হাজার টাকা গুনতে হবে। আবার যদি টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতে হয় তার জন্য হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে মডেল দ্বারা বিজ্ঞাপণ প্রদান করা হয়।

এতে করে কোম্পানির অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যায় এরকম একটা লাভজনক হয়ে উঠে না। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মাত্র ৫ ডলার বা ৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত মার্কেটিং করা যাবে যাবে খুব অল্প সময়ের ভিতর।

ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা আপনার প্রোডাক্টের বা সেবা আসলে কোন ধরনের বয়সের লোকদের মাঝে করতে চান অথবা কোন কোন লোকেশনে আপনার বিজ্ঞাপনটি দেখাতে চান সেটাও খুব সুন্দর ভাবে সেট করে নিতে পারবেন।

  • কম খরচ দিয়ে সব কোম্পানি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবে।
  • সময় কম লাগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য।
  • নিজে নিজেই ঘরে বসে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়।
  • লোকেশন অনুযায়ী মার্কেটিং করা যায়।
  • অনলাইনে আপনার কোম্পানির নাম ব্রেন্ডে করতে পারবেন।
  • মানুষের মাঝে খুব তারা তারি পরিচিত হতে পারবেন যা অন্য উপায়ে অনেক সময় লাগে।
  • আপনার সেবা বা প্রডাক্টের দাম সঠিক ভাবে উপাস্থাপন করা যায়।
  • বয়স অনুযায়ী আপনার সেবা বা প্রডাক্টের মার্কেটিং করতে পারবেন মানে কোন কোন বয়সের মানুষের মাঝে মার্কেটিং করতে পারবেন তা সেট করা যায়।

Conclusion

আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান তাহলে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভাল আইডিয়া জেনারেট করে নিয়ে মাঠে নামতে হবে অন্যথায় আপনার ক্লায়েন্টকে ভাল সার্ভিস দিতে পারবেন না।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এতক্ষণ যা কিছু জানলেন এর বাইরে আপনার যদি আরো কিছু জানার প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। আমরা আপনার কমেন্ট সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করি। ডিজিটাল মার্কেটিং এ যারা নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য পরবর্তীতে আরো গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট থাকবে। সবসময় সঠিক ইনফরমেশন পেতে এবং ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করুন আর আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ সবাইকে ।

আরও পড়ুন

Digital Marketing

“Marketing””Marketing strategy””E-commerce””Graphics””Marketing management””Copywriting””Business””Data science””Content marketing””Advertising””Digital Marketing Course”                                  “digital marketing”                                 “digital marketing tutorial”                           “digital marketing tutorial for beginners”                “what is digital marketing”                            “digital marketing explained”                          “learn digital marketing”                             “social media marketing””digital marketing for beginners”  “internet marketing”                              ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রধান স্তম্ভ কয়টিডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সডিজিটাল মার্কেটিং a to zডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিং

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button